| বঙ্গাব্দ

ইরানের ৮০% নৌশক্তি ধ্বংস, যুদ্ধ জয়ের পথে ট্রাম্প | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-03-2026 ইং
  • 791264 বার পঠিত
ইরানের ৮০% নৌশক্তি ধ্বংস, যুদ্ধ জয়ের পথে ট্রাম্প | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: ইরানের ৮০% নৌশক্তি ধ্বংস, যুদ্ধ জয়ের পথে ট্রাম্প

'মিশন প্রায় শেষ, ইরান এখন ধ্বংসস্তূপ': ফ্লোরিডায় হুঙ্কার ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে হোয়াইট হাউস থেকে এক অভাবনীয় সামরিক অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির এক সম্মেলনে বর্তমান সংঘাতকে তার মূল এজেন্ডার বাইরে একটি ‘ছোট্ট অভিযান’ (Little Excursion) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন প্রায় নিঃশেষ।

হামলার যৌক্তিকতা ও ক্ষয়ক্ষতি

ফ্লোরিডার মিয়ামি এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, "এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণ করতে যাচ্ছিল, তাই আমি প্রথম হামলার নির্দেশ দিই। তাদের কাছে কল্পনাতীত মিসাইল মজুত ছিল।" প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, গত ১০ দিনের অভিযানে ইরানের নৌবাহিনীর ৮০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থার ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোন তৈরির কেন্দ্রসহ এ পর্যন্ত ৫,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "ইরানি বাহিনী এখন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস এবং তাদের মিসাইল সক্ষমতা ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।"

১৯৫০ থেকে ২০২৬: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র মদদপুষ্ট অভ্যুত্থানে মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের পতনের পর শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছিল ইরানের প্রধান মিত্র।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সেই সম্পর্কে চিরস্থায়ী ফাটল ধরে। ১৯৯০-এর দশকে ‘দ্বৈত কন্টেনমেন্ট’ নীতি এবং ২০০০-এর দশকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠিত হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে এসে ট্রাম্পের এই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) মূলত সাত দশকের সংঘাতকে এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ১৯৫০ সালে যা ছিল অংশীদারিত্ব, ২০২৬ সালে তা রূপ নিয়েছে সর্বাত্মক যুদ্ধে।

অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব

ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, এই যুদ্ধ মার্কিন শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, "মিশন শেষ হলেই বাজার আগের চেয়ে অনেক ওপরে উঠবে। চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মাধ্যমে এই দীর্ঘস্থায়ী হুমকির চিরসমাপ্তি ঘটানো হবে।" তিনি আরও জানান, বর্তমান অপারেশনটি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।


সুত্র: ১. হোয়াইট হাউস প্রেস রিলিজ ও ফ্লোরিডা রিপাবলিকান কনফারেন্স (০৯ মার্চ ২০২৬)। ২. সিবিএস নিউজ (CBS News) ও বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)। ৩. জাতীয় আর্কাইভস: মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার সম্পর্কের সাত দশক (১৯৫০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency